April 9, 2026, 1:16 pm

সংবাদ শিরোনাম
রংপুরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ আত্মীয়ের বাসা থেকে সাড়ে চার কোটির ছায়া: নথি ঠিক, উৎস অদৃশ্য নিজের অপরাধ আড়াল করতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ মেইন রাস্তার ধুলো নয়, নীরব বিষ: রংপুরে তামাক ক্রাসিংয়ের অবৈধ বিস্তার রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা দিনাজপুরে আশ্রম ও এতিমখানায় ৩ কোটি ৬২ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ হাম-আতঙ্কের ভেতর পাঁচ শিশু, রমেকে নীরব লড়াই রংপুরে ”আলোকিতো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত সাড়ে চার কোটির ছায়া: শ্বশুর সামনে, কাস্টমস্ জামাতার সংযোগ গংগাচড়ায় আপোষের নামে বোনকে ডেকে মারপিট, আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ২০২০ সালে রেলের বিলাসবহুল টুরিস্ট ট্রেন চালুর পরিকল্পনা

ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ২০২০ সালে রেলের বিলাসবহুল টুরিস্ট ট্রেন চালুর পরিকল্পনা

mostbet

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

 

বাংলাদেশ রেলওয়ে আগামী ২০২০ সালে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বিলাসবহুল টুরিস্ট ট্রেন চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে। সেই লক্ষ্যে চলতি মাসেই শুরু হয়েছে দোহাজারী-গুনদুম রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প। এর ফলে ২০২০ সালে সারাদেশের সাথে কক্সবাজারও রেল যোগাযোগের আওতায় চলে আসবে। আর প্রকল্পটি উদ্বোধনের দিন থেকেই ওই রুটে বিলাসবহুল পর্যটন ট্রেন পরিচালনার পরিকল্পনা  নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সেজন্য রেলওয়ে ১২ সেট অত্যাধুনিক ট্যুরিস্ট কার আমদানির একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিগত ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে কক্সবাজার পর্যন্ত ট্যুরিস্ট কারসংবলিত ট্রেন পরিচালনায় বিষয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে দোহাজারী-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল শুরুর দিন থেকে বিলাসবহুল ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়। সেই প্রেক্ষিতে রেলের পূর্বাঞ্চলের যন্ত্র প্রকৌশল দপ্তর পরিবহন বিভাগের কাছে ট্যুরিস্ট কার আমদানির বিষয়ে মতামত চেয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ জানুয়ারি পরিবহন বিভাগ যন্ত্র প্রকৌশল দপ্তরকে প্রাথমিকভাবে মোট ১২টি ট্যুরিস্ট কার ক্রয়ের জন্য অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেয়। চিঠিতে ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা রুটে শতভাগ এসি ট্রেনে ট্যুরিস্ট কার সংযোজনের বিষয়ে পরিবহন বিভাগের অনাপত্তি জানিয়ে দেয়া হয়। তাতে ঢাকা থেকে সরাসরি (পথিমধ্যে কয়েকটি বিরতিযুক্ত ট্রেন) কক্সবাজারে ট্রেন পরিচালনায় ট্যুরিস্ট কার সংযোজন রেলের পাশাপাশি দেশের পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নেবে বলেও উল্লেখ করা হয়। সেজন্য দোহাজারী-গুনদুম রেলপথটির নির্মাণকাজ শেষ করার আগেই কক্সবাজার পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী শতভাগ ট্রেন পরিচালনার চিন্তাভাবনা করছে রেলওয়ে। পর্যটন শহর কক্সবাজার ভ্রমণে আসা যাত্রীদের কাছে রেলের নতুন প্রকল্পটি আকর্ষণীয় হবে বলে রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সূত্র জানায়, বতর্দমানে রেলওয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেন সুবর্ণ ও সোনার বাংলা এক্সপ্রেস। আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর মধ্যে বিরতিহীন ওই দুটি ট্রেনের প্রায় শতভাগ আসনের টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। ট্রেন দুটি প্রতিদিন ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে সরাসরি (ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে বিরতিযুক্ত) যাত্রী পরিবহন করে। মাত্র ৫ ঘণ্টা ১০ মিনিটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাত্রী পরিবহনের কারণে দ্রুতযান হিসেবে ট্রেন দুটির জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার দূরত্ব আরো কমিয়ে আনতে রেলপথে প্রায় বিরতিহীন ট্রেন সেবার পরিকল্পনাও হাতে নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা রুটে সাধারণ ট্রেনের পাশাপাশি প্রতিদিন ঢাকা থেকে সরাসরি (ন্যূনতম কয়েকটি বিরতিযুক্ত) কক্সবাজারে সম্পূর্ণ এসি ট্রেন সেবা পরিচালনার চিন্ত করছে রেলওয়ে। ওসব ট্রেনে পর্যটক হিসেবে চলাচলরত যাত্রীদের সুবিধার্থে ট্যুরিস্ট কার সংযোজন করা হবে। ওসব ট্যুরিস্ট কারে সুপরিসর বার্থ সার্ভিস ছাড়াও রেলের নিজস্ব ক্যাটারিং সার্ভিস, সার্বক্ষণিক গার্ড, ওয়েটার সুবিধা ও যাত্রাপথে প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার ব্যবস্থা রাখা হবে।

সূত্র আরো জানায়, রেলের ট্যুরিস্ট কার প্রকল্পটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে কয়েক দফা বৈঠকের পর পরিবহন বিভাগের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। পরিবহন বিভাগও এ বিষয়ে ইতিবাচক মতামত দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর একটি প্রকল্প উন্নয়ন প্রস্তাবনা (ডিপিপি) তৈরি করা হবে। আর ২০২০ সালের মধ্যে কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেন পরিচালনার প্রয়োজনীয় কোচ আমদানির পাশাপাশি ট্যুরিস্ট কারও আমদানি করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রেলওয়েতে পর্যটকদের জন্য বিশেষ সুবিধাসংবলিত ট্রেন সার্ভিস রয়েছে। রেলওয়ের অগ্রাধিকার প্রকল্প দোহাজারী-গুনদুম রেললাইনও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগেই কক্সবাজারের সঙ্গে কাক্সিক্ষত ট্রেন সার্ভিস পরিচালনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সাধারণ ট্রেন সার্ভিসের পাশাপাশি বিশেষায়িত পর্যটন কার যুক্ত করতে একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। সরাসরি ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত এসি কোচসংবলিত ট্রেন পরিচালনার চিন্তাভাবনা চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে কক্সবাজার ও সারা দেশের পর্যটন খাতের সম্ভাবনা বাড়বে।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর